আমি প্রতিনিয়ত নির্যাতিতা হয়েই চলেছি । আমার কি করা উচিত ? এ অবমাননার করাল গ্রাস হতে আমায় উদ্ধার করতে পারে এমন কি কেউ আছে পুরুষ শাসিত এই বিশ্ব সংসারে ? কোথায় সে সুহৃদ ?
যদিও এ বাসনা নিপীড়িত সকল নারী-ই চিরকাল করে এসেছে , আমিও করেছি কিনতু চরম সত্য টুকু জানার পর এ রকম বাসনার প্রকাশ
আমার নিকট ভন্দামির-ই নামান্তর । তথাপি কুহকি আশার কু-মন্ত্রণায় হতবুদ্ধি হয়ে পড়ছি ক্রমশ:
এতদিন নিজেকে সাহসী-দৃড়চেতা বলেই ভেবে এসেছি । বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অবাক -বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম যে- কত ভীরু কত দুর্বল আমি । তবে যতটা রাগ বা ঘৃনা অত্যাচারীর প্রতি আমার হওয়ার কথা তা হচ্ছে না । বরং আমার নির্বুদ্ধিতা-আমার হঠকারিতা-ই এ অবস্থার জন্য দায়ী
তা-ও বুঝতে পারছি , সব কিছু জেনে-বুঝেও যদি আমি এতবড় ভূল করতে পারি , তাহলে নির্যাতন কারীরা না জেনে-বুঝে ভূল কেন ওদের অস্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গিতে তো সঠিক কাজ-ই করেছে । এ ক্ষেত্রে আমার এ ধারণার প্রকাশ টুকু খোঁড়া-যুক্তির মত শোনাচ্ছে কিনা অথবা " পাড়তে না পেরে আঙ্গুর ফল টক " এর মত ধূর্ত শেয়ালের মানসিকতা বলে মনে হচ্ছে কিনা তা বুদ্ধিমান-সত্যদর্শিরাই বলতে পারেন । আমি শুধু অন্তর থেকে যা উপলব্ধি করেছি তা-ই প্রকাশ করছি । আমার এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল্যায়ন সর্বসাধারণের বোধগম্য হবে না এ-ও জানি । জনে-জনে বোঝানোর দায়ভার-ও তাই নিচ্ছি না , তবে যার বা যে বোঝার সে ঠিক বুঝবে বলেই আমার বিশ্বাস ।
এখন প্রসঙ্গ হলো যে , যে পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমার এই রোজ-নামচার সৃষ্টি তার জের সহজে মিটবে না জানি , কারণ লাটাই আমার হাতে থাকলে-ও ঘুরি উড়ে গেছে সূতো ছিঁড়ে ।
তা-ই বাতাসের গতি-প্রকৃতি না বুঝে ................ আমার ভূলের প্রায়শ্চিত্য আমাকেই করতে হবে । চিরাচরিত প্রথার বিরুদ্ধাচরণ করে , অনিয়মের নিয়ম ভেঙ্গে একবার যে শেকল ছিঁড়ে ফেলার দুঃসাহস দেখিয়েছি তা আর রোধ বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা-ইচ্ছে কোনটাই আমার নেই । আমার সামনে এখন পথ আছে দু'টো । সব কিছু জেনে-বুঝেও নাদানের আওতায় থাকা এবং দৈন্য দশায় নিপতিত হয়ে ওদের যাবতীয় নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে যাওয়া । আর তা-ই যদি করতে হয় তাহলে বক ধার্মিক সদৃশ বুদ্ধিমানদের সত্যাশ্রয়ী সংস্পর্শ ত্যাগ করা-ই আমার জন্য শ্রেয় । যদিও তা হবে আমার জীবন্মৃত হয়ে থাকা । আর দ্বিতীয় পথ হচ্ছে আত্মহত্যা -কেননা ধৈর্য-সহ্যশক্তির বহু অপচয় করেছি বিগত জীবনে , আর তেমন অবশিষ্ট কিছু নেই ।
তা'ছাড়া এতকাল ধৈর্য ধরার বা সহ্য করার একটা কারণ ছিল সেটা হচ্ছে " আত্মহত্যা মহাপাপ " কিন্তু এখন আর .............। জানি পৃথিবী নামক এই ছোট্ট সুন্দর গ্রহটিতে আমার অনোবস্থানে কারুর বিশেষ কিছু আসবে-যাবে না । কারণ আমি এমন কোনো অতীব মূল্যবান-প্রয়োজনীয় অদ্বিতীয় কিছু নই ।
আর মানুষের মন নাকি নিয়ন্ত্রনহীন পাগলা ঘোড়ার মত , তা-ই তার গতি অবাধ-যত্রতত্র । যারা নাকি মন নামক এই পাগলা ঘোড়াটির মুখে ধৈর্য-সহ্য , বুদ্ধি-বিবেচনা , ত্যাগ-তিতিক্ষা , সংযম-সাধনা ইত্যাদির মিশ্রণে শক্তিশালী লাগাম তৈরী করে মনের মুখে লাগাতে পেরেছে এবং নীয়মতন্ত্র নামের চাবুক দিয়ে নিজের ইচ্ছে মত পিটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে তারা-ই হলেন বুদ্ধিমান-সাধক , মহান , মহামানব ।
আমার এতদিন মিথ্যে অহংকারে মাটিতে পা পড়ত না । মিথ্যে দম্ভোটা হলো " আমি-ও মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি বা জানি " । কেননা লোভ-মোহ , হিংসা , পরশ্রীকাতরতা আমায় তেমন ভাবে স্পর্শ করতে পারে না । কিন্তু আমার স্ব-নির্মিত লাগাম +চাবুক-এ আরও বহু +এর - ছিল বলে ..
আমার লাগাম+চাবুকটা তেমন শক্তিশালী হয়নি । আমি ভুলের স্বর্গের নন্দন কানন নয় , ঝোপ-জঙ্গল , সাপ-খোপ সংকুল অরণ্যবাসী । আর এটা বুঝতে এত সময় লাগলো যে .....কতো বড় নাদান আমি .
গুনীজনেরা হয়ত বলবেন , বুঝতে যখন পেরেছ তখন আর সমস্যা কি ? তৈরী করে ফেলো শক্তিশালী লাগাম আর চাবুক । আসলে সত্যি-ই কি তাই ? কোন রকম সমস্যা নেই ? আছে-একশ একটা সমস্যা আছে । সু'জনদের পরামর্শে একশ সমস্যার সমাধান করতে পারি-শুধু একটার পারি না , কারণ ঐ একটা সমস্যা জিইয়ে রাখার মধ্যেই নিহিত আছে একশ সমস্যার সমাধান । যদি ঐ একটা সমস্যার সমাধানে তত্পর হই তাহলে আমি হয়ে যাব জীবন্মৃত-আমার "আমিত্ব " থাকবে না , তা না থাকুক । কিন্তু জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে থাকার স্বার্থকতা কি ?
তাই কাজ নেই লাগাম পরিয়ে-মন নামক পাগলা ঘোড়ার নিয়ন্ত্রণ করে । তার চেয়ে যেদিকে যেমন খুশি ছুটুক না । মাঝে-মধ্যে একটু অস্বস্তি-অপ্রীতিকর অবস্থার মুখোমুখি হয়তো পড়তে হবে , তা হোক কষ্ট না পেলে সুখের মর্ম কি অনুভব করা যায় ? সে যা-ই হোক কথা হলো নাকি মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম , পারতাম বলছি এই জন্য যে সেটা এ মুহুর্তে অতীত । স্বপ্নের নন্দন-কানন থেকে বাস্তবতার ঘোরানো-পেঁচানো নাগপাশে পিষ্ট হাঁস-ফাঁস করতে-করতে নিদ্রাবিমুক্ত নয়ন মেলে তাকিয়ে দেখি ....... স্বর্গের নন্দন কানন নয় গভীর জনারন্যে আমি এবং আমরা আরও অনেকেই আক্রান্ত । চারিদিকে হায়েনার হাঁসি-শুকরের ঘৎ-ঘৎ , আপাদমস্তক কচুক্ষেত-নোংরা-নর্দমা , আমি (আমরা ) চলৎ শক্তি রহিত হয়ে নির্যাতিত-নিস্পেষিত হয়ে চলেছি । মৃত্তিকাশ্রয়ী জানোয়ার-ই শুধু নয় শুন্যাশ্রয়ী চিল-শকুনেরাও আমার (আমাদের) ব্রম্মতালু ঠুকরে-ঠুকরে খাচ্ছে মগজের চাটনি । জলাশ্রয়ী হাঙ্গর-কুমির অক্টোপাশেরাও পিছিয়ে নেই । এমনি ঘোর অমানিশাময় কালপ্রহরে পুরুষ নামক অত্যাচারী খাদকদের খপ্পর থেকে খাদ্য বিশেষ নারীকুল-নিপীড়িত তাবৎ দুর্বল শ্রেনীর প্রাণসর্বস্ব প্রাণীদেরকে উদ্ধার করতে আবির্ভাব হলো "মানুষ" নামের সত্যাশ্রয়ী-পরোপকারী-দয়ালু-সাহায্যকারী কিছু পথ-প্রদর্শকের । যারা এই ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন জীব-জীবনগুলির পতিত-পীড়িত দলিত-মোথিত গলিত-ছিন্নভিন্ন ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র অংশ গুলোকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থা হতে কুড়িয়ে কাড়িয়ে সংহত করার প্রচেষ্টায় ব্যপৃত হলো । কিছু-কিছু সফলতা-ও অর্জন করলো এ কাজে । পুরোপুরি করতে অনেক সময়ের অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রয়োজন আচড় -কামড় , শ্যান-বান , বজ্র-বিদ্রুপের কবলে পড়ে হেস্ত-নেস্ত-ও হতে হবে এ-ও তারা জানে-বোঝে
স্বাদ পায় । তবে এর থেকে উত্তরণের পথ-ও তারা জানে , সে পথের নাম ধৈর্য -সহ্য । যুগে-যুগে এই সব মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন মহান ব্যক্তিরাই হলো সত্যিকারের মানুষ । অবয়ব সর্বস্ব "পুরুষ" নয় ।
@ সুপা ----------
যদিও এ বাসনা নিপীড়িত সকল নারী-ই চিরকাল করে এসেছে , আমিও করেছি কিনতু চরম সত্য টুকু জানার পর এ রকম বাসনার প্রকাশ
আমার নিকট ভন্দামির-ই নামান্তর । তথাপি কুহকি আশার কু-মন্ত্রণায় হতবুদ্ধি হয়ে পড়ছি ক্রমশ:
এতদিন নিজেকে সাহসী-দৃড়চেতা বলেই ভেবে এসেছি । বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অবাক -বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম যে- কত ভীরু কত দুর্বল আমি । তবে যতটা রাগ বা ঘৃনা অত্যাচারীর প্রতি আমার হওয়ার কথা তা হচ্ছে না । বরং আমার নির্বুদ্ধিতা-আমার হঠকারিতা-ই এ অবস্থার জন্য দায়ী
তা-ও বুঝতে পারছি , সব কিছু জেনে-বুঝেও যদি আমি এতবড় ভূল করতে পারি , তাহলে নির্যাতন কারীরা না জেনে-বুঝে ভূল কেন ওদের অস্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গিতে তো সঠিক কাজ-ই করেছে । এ ক্ষেত্রে আমার এ ধারণার প্রকাশ টুকু খোঁড়া-যুক্তির মত শোনাচ্ছে কিনা অথবা " পাড়তে না পেরে আঙ্গুর ফল টক " এর মত ধূর্ত শেয়ালের মানসিকতা বলে মনে হচ্ছে কিনা তা বুদ্ধিমান-সত্যদর্শিরাই বলতে পারেন । আমি শুধু অন্তর থেকে যা উপলব্ধি করেছি তা-ই প্রকাশ করছি । আমার এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল্যায়ন সর্বসাধারণের বোধগম্য হবে না এ-ও জানি । জনে-জনে বোঝানোর দায়ভার-ও তাই নিচ্ছি না , তবে যার বা যে বোঝার সে ঠিক বুঝবে বলেই আমার বিশ্বাস ।
এখন প্রসঙ্গ হলো যে , যে পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমার এই রোজ-নামচার সৃষ্টি তার জের সহজে মিটবে না জানি , কারণ লাটাই আমার হাতে থাকলে-ও ঘুরি উড়ে গেছে সূতো ছিঁড়ে ।
তা-ই বাতাসের গতি-প্রকৃতি না বুঝে ................ আমার ভূলের প্রায়শ্চিত্য আমাকেই করতে হবে । চিরাচরিত প্রথার বিরুদ্ধাচরণ করে , অনিয়মের নিয়ম ভেঙ্গে একবার যে শেকল ছিঁড়ে ফেলার দুঃসাহস দেখিয়েছি তা আর রোধ বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা-ইচ্ছে কোনটাই আমার নেই । আমার সামনে এখন পথ আছে দু'টো । সব কিছু জেনে-বুঝেও নাদানের আওতায় থাকা এবং দৈন্য দশায় নিপতিত হয়ে ওদের যাবতীয় নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে যাওয়া । আর তা-ই যদি করতে হয় তাহলে বক ধার্মিক সদৃশ বুদ্ধিমানদের সত্যাশ্রয়ী সংস্পর্শ ত্যাগ করা-ই আমার জন্য শ্রেয় । যদিও তা হবে আমার জীবন্মৃত হয়ে থাকা । আর দ্বিতীয় পথ হচ্ছে আত্মহত্যা -কেননা ধৈর্য-সহ্যশক্তির বহু অপচয় করেছি বিগত জীবনে , আর তেমন অবশিষ্ট কিছু নেই ।
তা'ছাড়া এতকাল ধৈর্য ধরার বা সহ্য করার একটা কারণ ছিল সেটা হচ্ছে " আত্মহত্যা মহাপাপ " কিন্তু এখন আর .............। জানি পৃথিবী নামক এই ছোট্ট সুন্দর গ্রহটিতে আমার অনোবস্থানে কারুর বিশেষ কিছু আসবে-যাবে না । কারণ আমি এমন কোনো অতীব মূল্যবান-প্রয়োজনীয় অদ্বিতীয় কিছু নই ।
আর মানুষের মন নাকি নিয়ন্ত্রনহীন পাগলা ঘোড়ার মত , তা-ই তার গতি অবাধ-যত্রতত্র । যারা নাকি মন নামক এই পাগলা ঘোড়াটির মুখে ধৈর্য-সহ্য , বুদ্ধি-বিবেচনা , ত্যাগ-তিতিক্ষা , সংযম-সাধনা ইত্যাদির মিশ্রণে শক্তিশালী লাগাম তৈরী করে মনের মুখে লাগাতে পেরেছে এবং নীয়মতন্ত্র নামের চাবুক দিয়ে নিজের ইচ্ছে মত পিটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে তারা-ই হলেন বুদ্ধিমান-সাধক , মহান , মহামানব ।
আমার এতদিন মিথ্যে অহংকারে মাটিতে পা পড়ত না । মিথ্যে দম্ভোটা হলো " আমি-ও মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি বা জানি " । কেননা লোভ-মোহ , হিংসা , পরশ্রীকাতরতা আমায় তেমন ভাবে স্পর্শ করতে পারে না । কিন্তু আমার স্ব-নির্মিত লাগাম +চাবুক-এ আরও বহু +এর - ছিল বলে ..
আমার লাগাম+চাবুকটা তেমন শক্তিশালী হয়নি । আমি ভুলের স্বর্গের নন্দন কানন নয় , ঝোপ-জঙ্গল , সাপ-খোপ সংকুল অরণ্যবাসী । আর এটা বুঝতে এত সময় লাগলো যে .....কতো বড় নাদান আমি .
গুনীজনেরা হয়ত বলবেন , বুঝতে যখন পেরেছ তখন আর সমস্যা কি ? তৈরী করে ফেলো শক্তিশালী লাগাম আর চাবুক । আসলে সত্যি-ই কি তাই ? কোন রকম সমস্যা নেই ? আছে-একশ একটা সমস্যা আছে । সু'জনদের পরামর্শে একশ সমস্যার সমাধান করতে পারি-শুধু একটার পারি না , কারণ ঐ একটা সমস্যা জিইয়ে রাখার মধ্যেই নিহিত আছে একশ সমস্যার সমাধান । যদি ঐ একটা সমস্যার সমাধানে তত্পর হই তাহলে আমি হয়ে যাব জীবন্মৃত-আমার "আমিত্ব " থাকবে না , তা না থাকুক । কিন্তু জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে থাকার স্বার্থকতা কি ?
তাই কাজ নেই লাগাম পরিয়ে-মন নামক পাগলা ঘোড়ার নিয়ন্ত্রণ করে । তার চেয়ে যেদিকে যেমন খুশি ছুটুক না । মাঝে-মধ্যে একটু অস্বস্তি-অপ্রীতিকর অবস্থার মুখোমুখি হয়তো পড়তে হবে , তা হোক কষ্ট না পেলে সুখের মর্ম কি অনুভব করা যায় ? সে যা-ই হোক কথা হলো নাকি মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম , পারতাম বলছি এই জন্য যে সেটা এ মুহুর্তে অতীত । স্বপ্নের নন্দন-কানন থেকে বাস্তবতার ঘোরানো-পেঁচানো নাগপাশে পিষ্ট হাঁস-ফাঁস করতে-করতে নিদ্রাবিমুক্ত নয়ন মেলে তাকিয়ে দেখি ....... স্বর্গের নন্দন কানন নয় গভীর জনারন্যে আমি এবং আমরা আরও অনেকেই আক্রান্ত । চারিদিকে হায়েনার হাঁসি-শুকরের ঘৎ-ঘৎ , আপাদমস্তক কচুক্ষেত-নোংরা-নর্দমা , আমি (আমরা ) চলৎ শক্তি রহিত হয়ে নির্যাতিত-নিস্পেষিত হয়ে চলেছি । মৃত্তিকাশ্রয়ী জানোয়ার-ই শুধু নয় শুন্যাশ্রয়ী চিল-শকুনেরাও আমার (আমাদের) ব্রম্মতালু ঠুকরে-ঠুকরে খাচ্ছে মগজের চাটনি । জলাশ্রয়ী হাঙ্গর-কুমির অক্টোপাশেরাও পিছিয়ে নেই । এমনি ঘোর অমানিশাময় কালপ্রহরে পুরুষ নামক অত্যাচারী খাদকদের খপ্পর থেকে খাদ্য বিশেষ নারীকুল-নিপীড়িত তাবৎ দুর্বল শ্রেনীর প্রাণসর্বস্ব প্রাণীদেরকে উদ্ধার করতে আবির্ভাব হলো "মানুষ" নামের সত্যাশ্রয়ী-পরোপকারী-দয়ালু-সাহায্যকারী কিছু পথ-প্রদর্শকের । যারা এই ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন জীব-জীবনগুলির পতিত-পীড়িত দলিত-মোথিত গলিত-ছিন্নভিন্ন ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র অংশ গুলোকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবস্থা হতে কুড়িয়ে কাড়িয়ে সংহত করার প্রচেষ্টায় ব্যপৃত হলো । কিছু-কিছু সফলতা-ও অর্জন করলো এ কাজে । পুরোপুরি করতে অনেক সময়ের অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রয়োজন আচড় -কামড় , শ্যান-বান , বজ্র-বিদ্রুপের কবলে পড়ে হেস্ত-নেস্ত-ও হতে হবে এ-ও তারা জানে-বোঝে
স্বাদ পায় । তবে এর থেকে উত্তরণের পথ-ও তারা জানে , সে পথের নাম ধৈর্য -সহ্য । যুগে-যুগে এই সব মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন মহান ব্যক্তিরাই হলো সত্যিকারের মানুষ । অবয়ব সর্বস্ব "পুরুষ" নয় ।
@ সুপা ----------
No comments:
Post a Comment