"লক্ষ্য করুন প্লিজ .."
-জাতীসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন-
আর কত দিন বাঁচবে বাংলাদেশ ?
কত দিন টিকে থাকবে পৃথিবীর
মানচিত্রে পলি মাটির ছোট্ট সবুজ দেশটি ?
জাতীসংঘের মতে, শিল্পোন্নত দেশের
কারখানা গুলো থেকে উত্পাদিত হওয়া
গ্রিনহাউজ গ্যাস বায়ু মন্ডলে মারাত্মক
প্রভাব বিস্তার করে চলেছে , যার ফলে
বাড়ছে হিংস্র ঘূর্ণিঝড় উঁচু হচ্ছে সমুদ্র
জলের স্তর . আর এই জলের স্তর আরো
বাড়লে দুর্ভাগা বাংলাদেশই হবে প্রথম
শিকার ..বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন ,
জলের স্তর বাড়লে ২০৫০ সালের মধ্যে
বাংলাদেশের অর্ধেক তলিয়ে যাবে সমুদ্রে ..
আর একুশ শতকের শেষ নাগাদ হয়তো
ডুবে যাবে সমগ্র বাংলাদেশ .. কোটি কোটি
মানুষ প্রাণ হারাবে, দেশহীন উদ্বাস্তু হবে
বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশীরা
বিজ্ঞানীদের এসব সাবধানবাণী ও আশঙ্কা
থেকে আঁচ করা যায় , কত বড় সংকটের
দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ
অথচ এ নিয়ে এতটুকু আগ্রহ নেই-দুর্ভাবনা নেই
কোনো হাহাকার নেই দেশপ্রেমিকদের মনে-মুখে
বরং খবরটা চেপে রাখার চেষ্টা চারদিকে
নির্বাচন আর হরতাল ছাড়া যেন কোনো সমস্যাই
নেই বাংলাদেশে
বাইশ শতকে বাংলাদেশ নামে কোনো দেশ থাকবে
না এই পৃথিবীর মানচিত্রে .. বাংলাদেশীরা হয়ে উঠবে
রোহিঙ্গাদের মত উদ্বাস্তু
পৃথিবীর মানচিত্র থেকে বাংলাদেশের বিলুপ্তির জন্য
কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই এরকম আশংকা
আর বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যদ্বানির পরও বাংলাদেশ
সরকারও যেন এটাকে অমূলক মনে করে স্বাভাবিকভাবেই
নিয়েছে .. গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বাংলাদেশ যে
ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশের
নিজের কোনো দোষ নেই ; বরং সব চেয়ে বেশি দায়ী
শিল্পোন্নত দেশগুলো .. জাতিসংঘ "জলবায়ু তহবিল" বাংলাদেশকে
একটি মোটা অঙ্কের তহবিল দিচ্ছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ..
পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, আমাদের বন ও
পরিবেশ মন্ত্রনালয় এই তহবিলকে উত্সবের উপলক্ষ হিসেবে
নিয়েছে .. তহবিলের এই টাকা নয়ছয় করে বিলিবন্টনের
একটি তালিকার কথা ইতিমধ্যে প্রকাশিতও হয়েছে
মানুষ নানাভাবে হতভাগ্য হতে পারে জীবনে .. তবে যার দেশ
নেই, সেই সবচেয়ে হতভাগ্য .. উদ্বাস্তুরা শিকড়হীন, পরভূমে ভ্রাম্যমান
প্রতিটি মানুষের চাওয়া তার নিজের ঘর-দেশ, যে দেশের জন্য
বাঙালি ৩০ লাখ প্রাণের- অজস্র অশ্রুর বিনিময়ে বাংলাদেশ নামের
এই ছোট্ট সুন্দর ভুখন্ডটিকে স্বাধীন করেছে
অথচ এই দেশ - দেশের মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রথী-
মহারথিগণ বেশ নির্বিকার এই বিষয়ে , বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়েরও
কোনো জনসচেতনামূলক ভাবনার কথা আজও জানা যায়নি
দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনার কোনো প্রস্তুতি নেই
দুর্যোগ মোকাবেলার কৌশল নির্ধারণে কিছু এনজিওকে পরিবেশ
রক্ষার দায়িত্ব দিয়েই বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় তাদের কর্তব্য
শেষ করেছে ..
বিবিসি বলছে, সাগরের জল ২০৫০ সালের মধ্যে এক মিটার বাড়লে
বাংলাদেশের তিন কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হবে ...তলিয়ে যাবে প্রচুর সমভূমি
ছয় ঋতু জায়গায় শুধুমাত্র গ্রীষ্ম - বর্ষা ঋতুই দীর্ঘস্থায়ী হবে জলবায়ুর
পরিবর্তনে বৃষ্টি-স্বভাবেও অনিয়ম দেখা দেবে , ফলে ফসল উত্পাদন বিঘ্নিত
হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে উত্পাদন কমে যাবে ৩২ শতাংশ ..
যদি পানির স্তর এক মিটার বাড়ে তাহলে সুন্দরবনের কোনো অস্তিত্ব
থাকবে না- বাংলাদেশের মত্স্যশিল্প ধ্বংস হবে- ভূমি হারানো উদ্বাস্তু
মানুষের সংখ্যা বাড়বে, যা দেশের আর্থসামাজিক কাঠামোয় এক বিরাট
পরিবির্তন আনবে ..সমুদ্রসীমা বিস্তৃত হলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দেবে
এই অদূরবর্তী ভয়াবহ সঙ্কট থেকে পরিত্রান পেতে হলে ... 'কাল নয়, আজও নয়,
এখনিই' সময় বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে সচেতন হওয়ার ... যদি এই দেশের
ভৌগলিক ভবিষ্যত নিয়ে আমরা এই মুহুর্তেই সচেতন না হই, তাহলে বড়
নির্মমতা অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য ... হয়তো বঙ্গোপসাগরের অতল গহ্বরে
মৃত ঝিনুকের ন্যায় চিরকালের জন্য হারিয়ে যাবে 'বাংলাদেশ' নামের সুজলা সুফলা
শষ্য শ্যামলা এই দেশটি ..
সুত্র : কালের কন্ঠ
২৬ নভেম্বর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
লক্ষ্য করুন প্লিজ ..