December 2, 2016

আমার বিদায় বেলায় -----
মৃদু হেসে বলেছিলে-
আমায় ভুলে যেও আর...
পারলে ক্ষমা করো।
আমি সেদিন কিচ্ছু বলিনি-
শুষ্ক চোখে নিস্পলক তাকিয়ে
ছিলাম শুধু।
আমার সকল চিন্তাশক্তি যেন
লোপ পেয়েছিল।
     

November 22, 2016

এক নদী অন্ধকার
বুকে নিয়ে- অবাক তাকিয়ে...
আশাময় দুটি চোখ!
দেখে কেবলি ....
দুঃসময়ের নির্মম ঢেউ-
কী অবলীলায়-
ভাসিয়ে নিয়ে যায়...
জীবনের কূলে কূলে
সঞ্চিত যত- যাপনের
আলোময় পলি।
sp

   
অথেনটিকের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ-
যে অনুশীলনগুলো নিয়মিত করবে-
------------------------------------
-সকাল- সন্ধ্যা লবণযুক্ত গরম পানির গড়গড়া।
-যতবার সম্ভব দম ধরে রাখা ও ছাড়া।
-টেলিভিশনের সংবাদপাঠ খুব ভালো করে লক্ষ্য করা।
-সংবাদ পত্রের শিরোনাম গুলো এবং বিস্তারিত অংশের-
থেকে কিছু কাট ছাঁট করে নিজের মত একটা স্ক্রিপ্ট তৈরি
করে- সেটা ঠিক সংবাদ পাঠের মত করে আয়নার সামনে বসে
পাঠ করবে। আর হ্যা- তোমার ভয়েসটা রেকর্ডিং করতে ভুলবে না।
প্রতি সপ্তাহে অথেনটিকের ক্লাসে সেই ভয়েস রেকর্ড নিয়ে আসবে।
চলতি ব্যাচ-এর ক্লাস শেষে তোমাদের ভয়েস রেকর্ড শোনা হবে..
এবং ভুল-ভ্রান্তিগুলো আলোচনার মাধ্যমে শুধরে নেয়া যাবে।
-বাক প্রত্যঙ্গের ব্যায়াম করতে ভুলো না যেন।
-যত বেশি সম্ভব কবিতা মুখস্ত করে আবৃত্তি করবে-মনে রেখো
আগামী ডিসেম্বরে অথেনটিক একটি আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন
করবে- সেখানে তোমরাই মূল আবৃত্তিকার।
-সংবাদ ও উপস্থাপনার যে বই তোমরা নিয়েছো- সেটা খুব মনোযোগের
সাথে পড়বে।
-প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার সকলে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করবে।
-যখনই যেখানে টিভি চ্যানেলের সার্কুলার দেখবে- অথেনটিকের অথরিটিকে
জানাবে।
-তোমাদের যে মেডিটেশনটা শেখানো হয়েছিল ... সেটা করছো তো ?
বিঃ দ্রঃ - আগামী শুক্রবার যথারীতি যথা সময়ে ক্লাসে আসবে সবাই কেমন ?
সেই সময় পর্যন্ত সকলেই ভালো থেকো-সুস্থ থেকো আল্লাহ হাফিজ।

পরিত্যক্ত পথের বাঁকে....
.......................................
আজ অনেক-
অনেক দিন পর তোমায় দেখলাম-
পেছন থেকে হলেও  ঠিক চিনেছি-
তোমার ছায়াটাও বেশ ভালো চিনি
আমি। তোমার চরণধ্বনি-এমনকি
মাথার চুল থেকে পায়ের নখ অব্দি
যে দুর্গন্ধের আবরণ যা- মনে হলে...
আজও আমার বিবমিষা হয়..
আর- তোমার ঐ আগাগোড়া মাকাল
চেহারার অভ্যন্তরে যে মগজ !
যা- আস্ত এক শয়তানের স্বর্গরাজ্য!
বুকের কন্দরে পান পাতার মত অতি
ক্ষুদ্র একখানা হৃদয়-
লোভের বিষবৃক্ষে ভরা!
যেখানে মন বলে কিছু নেই...
ছিলোনা কখনোই।
তোমার মগজিক কূটকৌশল-
অন্তরের বিষাক্ত নোংরামি...
হাড়-মাস অস্থিমজ্জা পর্যন্ত শয়তানি সব-
সব আমার দীর্ঘদিনের তিক্ত অভিজ্ঞতার
সঙ্কলিত আবিষ্কার...
শুধু তোমায় ভালবেসেছিলাম-
ভালোবাসতে চেয়েছিলাম বলেই...
তোমায় বোঝার- জানার- চেনার জন্যই
সমস্ত প্রয়াস ছিল।
আমার সেই অক্লান্ত পরিশ্রম-
বৃথা যেতে দাওনি তুমি-
হাতে-হাতেই তার ফল দিতে একটুও
দেরি কিংবা কার্পণ্য করোনি।
অবশ্য- সে জন্য তোমার প্রতি
অনেক কৃতজ্ঞ আমি-
তাই আজ-
সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই তোমার
ছায়াও দু'পায়ে না মাড়িয়ে...
এড়িয়ে এসেছি- যতটুকু দূর দিয়ে সম্ভব
তোমায় পেরিয়ে এসেছি।
এর পরও...
তুমি ঠিক দেখে ফেললে আমায়-
কিন্তু নিশ্চিতভাবে চিনতে পারোনি...
মনে খানিকটা দ্বিধা নিয়ে-
আমার পিছু পিছু এগিয়ে এসেছিলে-
বেশ অনেকটাই...
সন্দেহ ঝেড়ে ফেলার জোর তাগিদে-
নাম ধরে চিৎকার করে ডাকলে আমায়...
আমি শুনতে পেয়েছিলাম ঠিকই...
কিন্তু না... চমকে গিয়ে থমকে দাঁড়াইনি-
ফিরেও তাকাইনি। না শোনার ভান করে
নির্দ্বিধায়... ধীর পায়ে হেঁটে চলে এসেছি-
কারণ... আমি তোমার মুখ দেখতে
চাইনি- চাই না আর কোনোদিনও।                          
sp         

           

November 17, 2016

ওরে নষ্টমনা নটবর....
তোর নষ্টামি দেখে...
জল আসে স্রষ্টারও চোখে!   
sp

জীবনের ছোট ছোট দুঃখ-
ব্যথাগুলো দু'পায়ে মাড়িয়ে
অবলীলায়... যখন সন্মুখে
এগিয়ে যাওয়ার লড়াই করছি
প্রাণপণ... তখনও জগৎ সংসার
এক পায়ে দাঁড়িয়ে... আমার ত্রুটি-
-বিচ্যুতি খুঁজে বের করবার প্রয়াসে
লিপ্ত- আরও বড় আঘাতে আমায়
বিধ্বস্ত করে দেয়ার মহৎ প্রচেষ্টায়?!
sp

জগতের মাঝে ঢের
ছিলি তো নগন্য
যে'ই তোরে অকাতরে
করেছে অনন্য
তারে ফেলে অবহেলে
হতে চাস ধন্য ?!
sp  
ব্যাঙ-এর সর্দি হয় ?
কষ্টখোর পায় ভয় ?! 

September 1, 2016

নিশীমন আজ হয় উন্মন
একটি ভোরের প্রতিক্ষায়। 
প্রহর যেন থমকে থাকে
অগম পথের অন্ধ বাঁকে
চাতক হিয়া গুমরে কাঁদে
অন্তবিহীন দূর্ভাবনায়।
sp

  
ওরে-
তোর্ বিরাগের আগুনে- মন পুড়ে ছাই
দেখি অন্তরে হাহাকার- কোথা কেহ নাই
তাই- 
আমি চিতার আলোয় ঘর বেঁধেছি শ্মশানে-
আজ পুড়ছে কায়া উড়ছে ধোঁয়া শব জানে
sp
 
"শর্ত"
ভাবছো বুঝি পারবে তুমি
ভাঙ্গতে আমার মন ?
চোখের জলে ভাসিয়ে দেবে
হৃদয় সিংহাসন ? 
ভাবছো কি তা বড়'ই সোজা ?
এতো'ই সহজ আমায় বোঝা ?
অবলীলায় ভাঙ্গবে এ মন ?
নয়ন জুড়ে আনবে কাঁদন ?
মন কি আমার কাঁচ বা পাথর ?
চোখের দু'কোণ শ্রাবন ভাদর ?
চেষ্টা করেই দেখো তবে (কথা দিলাম)
যদি পারো- আমার হবে ।
sp
  

August 2, 2016

অথেনটিকের ১ম ব্যাচ-এর তোমরা যারা কোর্স সম্পন্ন করেছো ....
প্রাকটিস করবে নিয়মিত- মনে রাখবে..... প্রাকটিসের বিকল্প নেই.....
বেশি বেশি করে নিউজ পেপার পড়বে- ভয়েস রেকর্ডিং করবে বার বার...
আয়নার সামনে বসে পড়বে- নিজের এক্সপ্রেশন গুলো লক্ষ্য করবে খুব ভালো করে-
কন্ঠস্বর ঠিক রাখার জন্য- প্রতিদিন সকালে ও রাতে হালকা গরম লবণ পানি গড়গড়া
করতে ভুলবে না- দম প্রাকটিস করবে- জিহ্বা ও ঠোঁটের ব্যায়াম করবে নিয়মিত-
দ্রুত এবং ধীর লয়ে পড়া আয়ত্ব করতে যে ছড়া-কবিতা গুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো
ঠিক মতো রপ্ত করার চেষ্টা করবে- কেমন ? 
   

August 1, 2016

'যখন-তখন'
----------------------
যখন বুকের বারুদ
মুখের তপ্ত কথায় !!
দাউ দাউ জ্বলে ওঠে !
তখন হৃদয় পোড়ে
অন্তর উঠোন জুড়ে
বিষাক্ত ধোঁয়ার বিষাদ !
মনের এক ফালি চাঁদ
নিমেষে জোছনা হারায় !!
বেদনার বিলাপ চোখে !
sp

 আজ এই ক্ষণে...!!!
--------------------------------------
কাস্তেরে কাটে যত পোকাদের দল-
অগা কাস্তেরা বিস্ময়ে বিমূঢ় বিহ্বল !
ঐ চন্দ্র কাঁদে বুকে চকর চাহি
বিমুখ চকর বলে- সময় নাহি !
টাকা'য় হিসেব করে- হৃদয়ের দাম
কড়ি দিয়ে কিনে ধনী গরীবের ঘাম!!

sp 

জীবন বলে হায়!
মরণ রে তোর- আর ঠিকানা নাই ?
কেন জন্ম থেকেই
ভর করেছিস বলতো কোথায় যাই ?
মরণ বলে জীবন রে
তুই চিরকালের বন্ধু সাথী ভাই
ওরে শেষ ঠিকানা
আমি যে তোর- সঙ্গে থাকি তাই !
sp



** "If you hide,I’ll seek for you,if you’re lost,I’ll
search for you,if you leave,I’ll wait for you,if
they try to take you away from me,I’ll fight for
you because I never want to lose someone I
love









July 31, 2016

আমি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের একজন #নাগরিক এবং সংবিধানের ৭ এর (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 
দেশের সকল ক্ষমতার #অধিকারী। 
আমি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ তৎপরতার তীব্র #প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 
#বিদ্যুৎ আমিও চাই- কিন্তু #সুন্দরবন ধ্বংস করে নয়। 
আমি #বিদ্যুৎ #সুন্দরবন দুইটাই চাই।   

>>>>>>>>স্মরণীয়/বরণীয়<<<<<<<<<<<< 
******************************************
*-বুঝতে চাওয়াই কষ্টের ব্যাপার -
*-কষ্ট যদি নিতেই হয় তাহলে সর্বোচ্চ কষ্টটাই নেব -
*-কষ্ট না পেলে আশির্বাদ ও পাবে না -
                                   ( সংগ্রহ )
আমি বলি -
-বুঝেও না বোঝার ভান করাটা আরও বেশি কষ্টের-
-নিতে হয় যদি সর্বোচ্চ কষ্ট-দেবো তার দ্বিগুন- 
-কষ্টের বিনিময়ে #আশীর্বাদের চেয়ে #অভিশাপই শ্রেয় .
--কেননা দুটোতেই কষ্ট আছে -
১ম টায় আছে #লোভ .
২য় টায় আছে #শিক্ষা
-শেষোক্তটাই আমার পছন্দ ।  
                                                        (sp)
 -------------------------------------------
-জীবনের  বাঁকে বাঁকে অনেক অনুশোচনা জমে থাকে,
কিনতু সেগুলোকে গুরুত্বের সাথে ধারণ করে- 
ক্রমাগত দিক/পথ পরিবর্তন না করে- 
জীবনের এবং চলার পথের- সাধারণ নিয়ম/অংশ মনে করতে পারলে- 
অসহনীয় বিষয়গুলোর "অ"টা স্বাভাবিকভাবেই বাদ পড়ে যায়- 
জীবনের গতি হয়ে ওঠে সহজ সাবলীল এবং গতিময়।  
 -----------------------------------------------------------------------
*-তুমি কতটুকু/কি কার কাছে পেতে চাও বা আশা করো তা না ভেবে-
কাকে কতটুকু/কি দিতে পারো তাই নিয়ে ভাবো ও সাধ্যমত চেষ্টা করো- 
সেই সঙ্গে তোমার ভাবনা টুকু ছড়িয়ে দাও সবার মাঝে- 
অন্তত মানসিক প্রশান্তি থেকে কেউ তোমায় বঞ্চিত করতে পারবে না ।
-------------------------------------------------------------------------
*-কেউ যদি তোমায় অবলম্বন করে বাঁচতে চায়-*
তাহলে প্রথমেই তাকে পরপারের পথ দেখিয়ে দাও -
-নইলে নিশ্চিত সে তোমায় স্বস্তির সাথে বাঁচতে দেবেনা।
*-কেউ যদি তোমায়
প্রাণের চেয়ে ভালবাসি/
তোমায় ছাড়া বাঁচবনা বলে-* 
ভুলেও তাকে বিশ্বাস করো না -কেননা 
নিশ্চিত ভাবেই 'সে' তোমার স্বাধীনতা হরণ করবে। 
-------------------------------------------------------------
-বিপদ-আপদ বাধা-বিপত্তির মুখে সাহস দেখানোর ক্ষমতা,
-প্রলোভনের মুখে আত্মসংযম,
-আঘাত পেয়েও সুখী থাকার চেষ্টা,
-হতাশার সন্মুখে চরিত্রের শক্তি দেখানো,
-সমস্যার মধ্যেও সুযোগ খুঁজে নেয়া –
-মানুষের এই গুনগুলি কাকতালীয় ব্যাপার নয়।
এগুলি শারীরিক-মানসিক পরিশ্রম এবং প্রশিক্ষণের ফল,
যা অনেক কষ্টে অর্জন করতে হয়।
 
সাধারণত কোন একটা জটিল ও কষ্টের কাজ- 
যখন সকলে মিলেই করতে থাকে-
তখন এটা আর তেমন জটিল ও অতি কষ্টের থাকে না, 
তা সহজ একটা বিষয়ে পরিণত হয়।     

 
নয় তত্ব ... অতি 'সত্য'
--------------------------------
যা তোমার নিজের জন্য কাম্য নয়-
তা অন্যের প্রতি চাপিয়ে দিও না।
যে কথায় তুমি মনে কষ্ট পাও-
সে কথা অন্যকে বলো না।
যে আচরণে তুমি অসন্তুষ্ট হও-
নিজের সে আচরণকে সংযত করো।
যে দুর্ভাবনায় তুমি পীড়িত হও-
সে দুর্ভাবনার কারণ তুমিও হয়ো না।
*এটাই সর্বোত্তম মনুষ্যত্ব*
  

 

July 29, 2016

Chupke se Chand ki
roshni choo jaye apko
Dheeray se ye hawa
kuch keh jaye apko
Dil se jo chahte ho
maang lo khuda se
Hum dua karte hain
mil jaye woh apko
চুপি চুপি চাঁদের আলো
ছুঁয়ে যাক তোমায়
ধীরে হাওয়া কিছু
বলে যাক তোমায়
অন্তর থেকে চাও তো
চেয়ে নাও খোদার কাছে
আমি দোয়া করি
তুমি যা চাও
তা যেন পাও
 



কষ্ট পেতেও কপাল লাগে-
এক চিমটি সুখের নায়
মুষ্ঠি বোঝাই কষ্ট যায়-
পায়নি যারা কষ্ট রতন
দুর্ভাগা তারা নষ্ট জনম
sp   


 

July 18, 2016

( অণুকাব্য সমূহ )
!!!  আলাচ !!!
----------------------- 
১.
অন্তঃ জমীন তোর
ফলাবে কাব্য অমর      
কত'টা হলে উর্বর ?
sp

২.
নয়ন ভরা এক নদী জল-
তবুও মরু মন !
তৃষ্ণা কাতর- শ্রাবণ ভাদর !
রুদালী ক্রন্দন !
sp 

৩.
কার জমি কে চাষে
মাতবরী ফলা-তে
তোলে ধান উচ্ছাসে
হুকুমের গোলাতে !!
sp

উফ................ !
তোমার সে প্রেম ছিল 
জলে আঁকা ছবি 
বোঝেনি এ বোকা মন 
ভুল ছিল সব'ই 
বিশ্বাসের খুঁটি গুলো 
ছিল নড়বড়ে 
পলকে ছড়িয়ে ধুলো
উড়ে গেছে ঝড়ে !! 
sp



আমি ক্ষেত ! তুমি মুলো 
খাদ্য তুমি - আমি ধুলো !
মূল্য কি বোঝো তায় ?
আমি বিনে তুমি নাই ... !!
sp 


চমত্কার !!!!!!!!!!
শুনছে বধির দেখছে কানায় 
কালের চরণ থমকে দাঁড়ায়
ভাবছে বসে পাগলে......
বোবারা আজ কেমন সরব 
বাঁশ বনেছে ঘাসগুলো সব
পায় না খেতে ছাগলে !!
sp 

 


July 17, 2016


ঐ আকাশ কুসুম কল্পনা'টা র জাল ছিঁড়ে
স্বপ্নেরা সব বেরিয়ে গেছে মনের ভুলে
স্বপ্ন বিহীন জীবন নদীর আঁধার কুলে
রুপকথা সব চুপ করা এক পানসি ভিড়ে !
sp

সাগরটা ছিল দৃষ্টির বড় কাছাকাছি !
তবু যেন কাছে নেই দুরে পড়ে আছি 









চমত্কার !!!!!!!!!!
শুনছে বধির দেখছে কানায় 
কালের চরণ থমকে দাঁড়ায়
ভাবছে বসে পাগলে......

বোবারা আজ কেমন সরব
বাঁশ বনেছে ঘাস গুলো সব 
খাচ্ছে সুখে ছাগলে !! 

June 24, 2016

কি আছে তোর ?
আমার আছে আস্ত নদী এক জোড়া
জোয়ার ভাটা, কানায় কানায় জল ভরা
আমার আছে আস্ত পাহাড় অন্তরে
অগ্নি গিরি নিত্য সেথা তান ধরে
আমার আছে মুক্ত আকাশ মন জুড়ে
রবি শশী লক্ষ তারা যায় ঘুরে !
!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
আমারে তুই কোন আগুনে পোড়াবি বল ?
ডুবাবি তুই ! কোথায় পাবি অথৈ জল ?
নিভিয়ে দিবি ? কোন বাতাসের ফুত্কারে ?
চিবিয়ে খাবি ? জোর কোথা তোর চিত্কারে ?
sp


চলমান সমাজ ব্যবস্থায় -
-----------------
জনতা সব কলুর বলদ
চোখে ঠুলি পরে,
নেতারা সব যেমন ঘোরায়
ঘুরছে তেমন করে
অন্ধকারে আলোর খোঁজে
হয়ে দিশে হারা,
দিগ-বিদিক জ্ঞান শুন্য হয়ে
বৃথাই খুঁজে সারা
ধরম করম সব-ই যেন
উল্টো রথে চলে
কারে রাখি কারে ছাড়ি
দেয় না তো কেউ বলে !!
sp


সময় আর স্বপ্ন হাত ধরে চলে ...
নিরন্তর সম্মুখ গতি...
আসে না ফিরে একবার গেলে ... 
সৃষ্টির এই তো রীতি  

June 21, 2016

একদিন আমি হারিয়ে যাবো
চির চেনা এই আসর থেকে
মুছে যাবে হয়তো আমার নাম
দির্ঘ শ্বাসে যাবে জানি ঢেকে
হবে নাতো আর দেখা বন্ধু
কখনো তোমাদের সাথে
বন্ধ হয়ে যাবে আসা যাওয়া 
গল্প হাসি দিনে রাতে ।।

June 15, 2016



একজন চেঞ্জমেকারের অঙ্গীকার ....... পর্ব ১
--------------------------------------------------------------------------------------------
আকাশে বাতাসে ফিসফিসানি ! অলি-গলিতে কানাকানি-
আশ্লেষ-বিশ্লেষ-আফসোসের গুঞ্জন ধ্বণি...মরেছে...অবশেষে !
- কে ? কে মরলো ?
- জ্বর ব্যাধি বুকে- ধুঁকে ধুঁকে মরলো 'ত্রিমস্তকি' ওই বুড়ো 'সমাজ'টা।
তা...ভালই হয়েছে , অনেক সয়েছে বেচারা অনাচারের চাবুকে ক্ষত-বিক্ষত ,
অবিচারের পদাঘাতে জরাজীর্ণ - অনিয়মের কারাগারে বন্দী ছিল বহুকাল-
আর কত সইবে বলো ? মরে বেঁচেছে বুড়ো'টা- দাহ কাফন হয়নি কিছুই ....
- কেন - কেন ?
- এই যাহ ! আবাল যেন... কিচ্ছু জানেনা ! কে করবে ? যার যার মত ব্যস্ত সবাই.... সময় নেই যে কারো।
- এ কেমন কথা ! পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াবে যে !
- তা'তে কি ? পারফিউম আছে না ! মুক্ত বাজারে যৌথ পুঁজির ঝাঁ চকচকে মোড়কে- ফরেন লেবেল সাঁটা ! বুড়ো 'সমাজের' জ্ঞাতি-গুষ্টি'রা বড়'ই দরাজ'দিল. খুব বেশি দুর্গন্ধ ছড়ালে বুড়োর লাশে'ও ছড়িয়ে দেবে খানিক'টা-
থু-থু ছিটানোর মত..... ছিত ছিত করে !
- ধু-উর ... কি যে বলো , দুর্গন্ধ ঢাকলেও... ভাইরাস,ব্যাকটেরিয়া.....ব্যাধি বিস্তার করবে যে !
- করুক- তা'তে কার কি ? বুড়োর জ্ঞাতি গুষ্টি.. মস্ত বড় ধনী-
প্রয়োজনে দেদার টাকা খরচ করে ,ভ্যালোর-মাদ্রাজ-কলকাতা.. চাইলে....
সিঙ্গাপুর-ইউরোপ- মায় আমেরিকা পর্যন্ত যাবে চিকিত্সা নিতে।
- আর যাদের ক্ষমতা নেই ?
- তারা তো কীট-পতঙ্গ , তাদের মরা বাঁচায় কি আসে যায় ?\
- এটা হতে পারে না।ওই কীট-পতঙ্গ'রাই তো ....
বাঁচিয়ে রেখেছে বুড়ো 'সমাজের' নামী দামী জ্ঞাতি- গুষ্টিকে !
- সেটা কি বোঝে নাদান কীটপতঙ্গ গুলো ? ওরা তো খানিক'টা উচ্ছিষ্ট পেলেই ধণ্য হয়ে..ধুঁকে ধুঁকে বাঁচে ! কে হে তুমি ? এত কিছু জানতে চাইছ আগে তো দেখিনি কখনো ! নাম- ধাম- কাম কি তোমার ?
-আমি ? চ্যাঞ্জমেকার- ধাম ? সমগ্র বিশ্ব-
কাম ? অনিয়ম-অনাচারের জঞ্জাল করি সাফ। অত্যাচারের ভুত-পেত্নী 'আচারের' বোতলে পুরে সুনীয়মের পাতালে দেই পুঁতে।
-তা বেশ - বেশ- কর তুমি যা পারো। আমরাও আছি , কাছাকাছি তোমার সাথে।


একজন চেঞ্জমেকারের অঙ্গীকার ....... পর্ব ২
--------------------------------------------------------------------------------------------
আমি- বুড়ো 'সমাজের' লাশ অন্ধকারের কালো কাফনে মুড়ে কাঁধে তুলে নিয়ে ছুটে যাই- দিগন্ত ছোঁয়া মুক্ত প্রান্তরে , তার বুকের জমিনে গাঁথি প্রতিরোধের শাণিত কোদাল- গগণ বিদারী আর্তচিত্কারে প্রতিবাদ করে বুকের জমিন-
- না- খুঁড়ো না আমায়- আমার বুকে "বুড়ো সমাজের" নেই কোনো স্থান- হতবাক বিহ্বল আমি , শুধাই জমিনে- কি কারণ ?
- বুড়োর আপাদমস্তক ছিঁড়ে-খুঁড়ে দেখো , বিবেক শুন্য- 'সমাজের' জ্ঞাতি-গুষ্টি'রা তার 'বিবেক'টাকে ছিনিয়ে নিয়ে দিয়েছে নির্বাসন- "অগম্য-অচিন পুরে"- যার ঠিকানা - নেই কারো জানা। বিবেক বিনে আমি পারবোনা দিতে স্থান এ বুকে আমার....
- নিরুপায় আমি শুধাই তারে- উপায় বলো। নির্বিকার বুকের জমিন বলে....
-যদি খুঁজে এনে দিতে পারো- বুড়ো 'সমাজের' বিবেক তুমি, তবেই দিতে পারি........সাড়ে তিন হাত জায়গা তারে- আমার এ বুকের কন্দরে ।

অগত্যা ছুটে চলি বুড়ো'র পঁচা লাশ কাঁধে- খুঁজে ফিরি , কোথায় বিবেক ! কোন সে "অগম্য-অচিন পুরে" ?
দিন- মাস- বছর পেরোয়.... বুড়ো সমাজের পঁচা লাশ , রোদে পুড়ে , জলে ভিজে ,দিবালোকে-ভরা জোছনায়
উদোম বুড়ো- অমানিশার গহীন আঁধারে আবৃত হয় । ছুটে যাই উত্তাল সমুদ্র পানে - মনে আশা... ভাসিয়ে দেব তার লাশ- তরঙ্গ-তিমিরে ।
গর্জে ওঠে সাগর ..
না- বিবেকহীনের হবে না ঠাঁই আমার পবিত্র জলে... !
অতঃপর... ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত আমি- বেসামাল লঘুচরণে নিয়ে ফেলি বুড়োকে- শশ্মানের শ্যাওড়া তলায়। বুক ভরে শ্বাস নেই পুলকিত মনে - এবার বুঝি হবে গতি বুড়ো 'সমাজের' ! জীর্ণ-শীর্ণ পঁচা লাশ'টাকে পুড়িয়ে ছাই করে উড়িয়ে দেব আকাশে-বাতাসে। তেনারাও ছিলেন রাজি।
কিন্তু ... বাধ সাধলো স্বয়ং অগ্নিচণ্ডাল !
-দূর হও লয়ে বিবেকহীনে - দেব না তিলার্ধ অগ্নিকণা ।
সেই থেকে আজও বুড়োর পঁচা লাশ কাঁধে বয়ে চলেছি । কত যুগ-যুগান্তর মহাকালের স্রোতে গেল ভেসে... অদ্যাবধি মেলেনি বিবেকের খোঁজ ! যদি পাও কেউ বিবেকের সন্ধান জানিয়ে দিও ভাই....এই ঠিকানায় : "চ্যাঞ্জমেকার ডট কম" ।
পুনশ্চ; যদি ফিরে পাই 'সমাজের বিবেক'টারে- কথা দিচ্ছি ... আমূল বদলে দেব সমাজের রূপ- ফিরিয়ে আনবো হারানো সম্পদ , বিলিয়ে দেব ওই কীট-পতঙ্গের মাঝে- যেন তারা ক্রমে ক্রমে হয়ে ওঠে.... এক-একটি মানুষ ! আর.. অনাচার-অবিচার-অত্যাচার নামের ভুত-পেত্নিগুলোর একে একে তুলে নেব লালসার ছাল- হিসেবের নূন-মরিচে মেখে- ঝলসে নেব প্রতিশোধের নীল আগুনে ।
পরিশেষে .... হাড়গোড় কঙ্কাল- বিবর্তনের বোতলে পুরে দেব আজন্মের নির্বাসন- ওদের'ই সেই অগম্য-অচিন পুরে । এ আমার অঙ্গীকার .... আমি এক চ্যাঞ্জমেকার ।
sp

 SHADHINBANGLA24.COM

(স্বাধীনবাংলা/এনজে)
তথ্য সূত্র:- জেলা তথ্য বাতায়ন, বাংলা পিডিয়া, উইকিপিডিয়া এবং বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত।

বাংলাদেশ ৭টি বিভাগে ভাগ করে ৬৪টি জেলা রয়েছে। আর এই ৬৪ জেলার প্রত্যেকটি জেলার নামকরণে রয়েছে ইতিহাস। কোন জেলা কি কারণে নামকরণ করা হয়েছে তা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা। তাই সংক্ষেপে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন ৪-৫টি করে তুলে ধরা হল ৬৪ জেলার নামকরণের ইতিহাস।

১. ঢাকা বিভাগ
২. চট্টগ্রাম বিভাগ
৩. খুলনা বিভাগ
৪. রাজশাহী বিভাগ
৫. বরিশাল বিভাগ
৬. রংপুর বিভাগ ও
৭. সিলেট বিভাগ।

১. ঢাকা জেলা:

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না। এ সম্পর্কে প্রচলিত মতগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:
ক) একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা) ছিল; খ) রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানের নির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো হয়েছিল; গ) ‘ঢাকাভাষা’ নামে একটি প্রাকৃত ভাষা এখানে প্রচলিত ছিল; ঘ) রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা শব্দটি ‘পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে অথবা এলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ডবাকই হলো ঢাকা।

কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাই রাজা মন্দিরের নাম ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে।আবার অনেক ঐতিহাসিকদের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্দির রূপ ধারণ করে এবং তা থেকেই এই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।

২. ফরিদপুর জেলা:

ফরিদপুরের নামকরণ করা হয়েছে এখানকার প্রখ্যাত সুফী সাধক শাহ শেখ ফরিদুদ্দিনের নামানুসারে।

৩. মাদারীপুর জেলা:

মাদারীপুর জেলা একটি ঐতিহাসিক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সাধক হযরত বদরুদ্দিন শাহ মাদার (র) এর নামানুসারে এই জেলার নামকরণ করা হয়। প্রাচীনকালে মাদারীপুরের নাম ছিল ইদিলপুর। ১৯৮৪ সালে মাদারীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

৪. গোপালগঞ্জ জেলা:

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস। অতীতের রাজগঞ্জ বাজার আজকের জেলা শহর গোপালগঞ্জ। আজ থেকে প্রায় শতাব্দীকাল পূর্বে শহর বলতে যা বুঝায় তার কিছুই এখানে ছিলোনা। এর পরিচিতি ছিলো শুধু একটি ছোট্ট বাজার হিসেবে। এঅঞ্চলটি মাকিমপুর ষ্টেটের জমিদার রানী রাসমণির এলাকাধীন ছিলো। উল্লেখ্য রানী রাসমণি একজন জেলের মেয়ে ছিলেন। সিপাই মিউটিনির সময় তিনি একজন উচ্চ পদস্থ ইংরেজ সাহেবের প্রাণ রক্ষা করেন। পরবর্তীতে তারই পুরস্কার হিসাবে বৃটিশ সরকার রাসমণিরকে মাকিমপুর ষ্টেটের জমিদারী প্রদার করেন এবং তাঁকে রানী উপাধিতে ভূষিত করেন। রানী রাসমণির এক নাতির নাম ছিলো নব-গোপাল তিনি তাঁর স্নেহাস্পদ নাতির নাম এবং পুরানো ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নাতিন নামের ‘গোপাল’ অংশটি প্রথমে রেখে তার সাথে রাজগঞ্জের ‘গঞ্জ’ যোগ করে এ জাযগাটির নতুর নামকরণ করেন গোপালগঞ্জ। ১৯৮৪ সালে ফরিদপুর জেলার মহকুমা থেকে গোপালগঞ্জ জেলা সৃষ্টি হয়।

৫. জামালপুর জেলা:

সাধক দরবেশ হযরত শাহ জামাল (র) এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত গরো পাহাড়ের পাদদেশে যমুনা-ব্রক্ষ্মপুত্র বিধৌত বাংলাদেশের ২০-তম জেলা জামালপুর। হযরত শাহ জামাল (র) এর নামানুসারে জামালপুরের নামকরণ হয়।

৬. কিশোরগঞ্জ জেলা:

১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে কিশোরগঞ্জ মহকুমার জন্ম হয়। মহকুমার প্রথম প্রশাসক ছিলেন মিঃ বকসেল। বর্তমান কিশোরগঞ্জ তৎকালীন জোয়ার হোসেনপুর পরগনার অন্তর্ভক্ত ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকেও কিশোরগঞ্জ এলাকা ‘কাটখালী’ নামে পরিচিত ছিল। ইতিহাসবিদদের ধারণা ও জনশ্রুতি মতে এ জেলার জমিদার ব্রজকিশোর মতান্তরে নন্দকিশোর প্রামানিকের ‘কিশোর’ এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাট বা গঞ্জের ‘গঞ্জ’ যোগ করে কিশোরগঞ্জ নামকরণ করা হয়।

৭. গাজীপুর জেলা:

বিলু কবীরের লেখা ‘বাংলাদেশের জেলা : নামকরণের ইতিহাস’ বই থেকে জানা যায়, মহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনকালে জনৈক মুসলিম কুস্তিগির গাজী এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং তিনি বহুদিন সাফল্যের সঙ্গে এ অঞ্চল শাসন করেছিলেন। এ কুস্তিগির/পাহলোয়ান গাজীর নামানুসারেই এ অঞ্চলের নাম রাখা হয় গাজীপুর বলে লোকশ্রুতি রয়েছে। আরেকটি জনশ্রুতি এ রকম সম্রাট আকবরের সময় চব্বিশ পরগনার জায়গিরদার ছিলেন ঈশা খাঁ। এই ঈশা খাঁরই একজন অনুসারীর ছেলের নাম ছিল ফজল গাজী। যিনি ছিলেন ভাওয়াল রাজ্যের প্রথম ‘প্রধান’। তারই নাম বা নামের সঙ্গে যুক্ত ‘গাজী’ পদবি থেকে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয় গাজীপুর। গাজীপুর নামের আগে এ অঞ্চলের নাম ছিল জয়দেবপুর। এ জয়দেবপুর নামটি কেন হলো, কতদিন থাকল, কখন, কেন সেটা আর থাকল না সেটিও প্রাসঙ্গিক ও জ্ঞাতব্য। ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন জয়দেব নারায়ণ রায় চৌধুরী। বসবাস করার জন্য এ জয়দেব নারায়ণ রায় চৌধুরী পীরাবাড়ি গ্রামে একটি গৃহ নির্মাণ করেছিলেন। গ্রামটি ছিল চিলাই নদীর দক্ষিণ পাড়ে। এ সময় ওই জমিদার নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে এ অঞ্চলটির নাম রাখেন ‘জয়দেবপুর’ এবং এ নামই বহাল ছিল মহকুমা হওয়ার আগ পর্যন্ত। যখন জয়দেবপুরকে মহকুমায় উন্নত করা হয়, তখনই এর নাম পাল্টে জয়দেবপুর রাখা হয়। উল্লেখ্য, এখনো অতীতকাতর-ঐতিহ্যমুখী স্থানীয়দের অনেকেই জেলাকে ‘জয়দেবপুর’ বলেই উল্লেখ করে থাকেন। গাজীপুর সদরের রেলওয়ে স্টেশনের নাম এখনো ‘জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন’। তবে বিস্তারিত আলোচনায় গেলে বলতেই হয়, গাজীপুরের আগের নাম জয়দেবপুর এবং তারও আগের নাম ভাওয়াল। গাজীপুরকে ১৯৮৪খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ জেলা এবং ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ জানুয়ারী রোজ: সোমবার সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হয়।

৮. মানিকগঞ্জ জেলা:

মূরত সংস্কৃত ‘মানিক্য’ শব্দ থেকে মানিক শব্দটি এসেছে। মানিক হচ্ছে চুনি পদ্মরাগ। গঞ্জ শব্দটি ফরাসী। মানিকগঞ্জের নামের ঋৎপত্তি ইতিহাস আজও রহস্যবৃত। অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে সুফি দরবেশ মানিক শাহ সিংগাইর উপজেলার মানিকনগরে আসেন এবং খানকা প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন।কারও মতে দূর্র্ধষ পাঠান সর্দার মানিক ঢালীর নামানুসারে মানিকগঞ্জ নামের উৎপত্তি। আবার কারো মতে, নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বিশাবাস ঘাতক মানিক চাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তার নমানুসারে ১৮৪৫ সালের মে মাসে মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ হয়। মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ সম্পর্কীত উল্লেখ্য তিনটি পৃথক স্থানীয় জনশ্রুতি এবং অনুমান নির্ভর। এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি, তবে মানিক শাহের নামানুসারে মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ সম্পর্কীত জনশ্রুতি এবং ঘটনা প্রবাহ থেকে যে চিত্র পাওয়া যায় তাই সঠিক বলে ধরা হয়।

৯. মুন্সীগঞ্জ জেলা:

মুন্সিগঞ্জে প্রাচীন নাম ছিল ইদ্রাকপুর। মোঘল শাসনামলে এই ইদ্রাকপুর গ্রামে মুন্সী হায়দার হোসেন নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মোঘল শাসক দ্বারা ফৌজদার নিযুক্ত ছিলেন। অত্যন্ত সজ্জন ও জনহিতৈষী মুন্সী হায়দার হোসেনের নামে ইদ্রাকপুরের নাম হয় মুন্সীগঞ্জ। কারো কারো মতে জমিদার এনায়েত আলী মুন্সীর নামানুসারে মুন্সীগঞ্জে নামকরণ করা হয়।

১০. ময়মনসিংহ জেলা:

ময়মনসিংহ জেলার নাম নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্য এ অঞ্চলে একটি নুতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই থেকে নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। সলিম যুগের উৎস হিসেবে নাসিরাবাদ, নাম আজও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও নাসিরাবাদ কথাটি উল্লেখ্য করা হচ্ছে না। ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত রেনেল এর ম্যাপে মোমেসিং নামটি ‘ময়মনসিংহ’ অঞ্চলকেই নির্দেশ করে। তার আগে আইন-ই-আকবরীতে ‘মিহমানশাহী’ এবং ‘মনমনিসিংহ’ সকার বাজুহার পরগনা হিসেবে লিখিত আছে। যা বর্তমান ময়মনসিংহকেই ধরা হয়।

১১. নারায়ণগঞ্জ জেলা:

১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বিকন লাল পান্ডে( বেণু ঠাকুর বা লক্ষীনায়ায়ণ ঠাকুর) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে এ অঞ্চলের মালিকানা গ্রহণ করে। তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি উইলের মাধ্যমে শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। তাই পরবর্তীকালে এ স্থানের নাম হয় নারায়ণগঞ্জ।

১২. নেত্রকোণা জেলা:

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৮০ খিস্টাব্দে হওয়া নেত্রকোণা মহকুমাকে ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলা করা হয়। নেত্রকোণার নামকরণ হয়েছে নাটেরকোণা নামক গ্রামের নাম থেকে।

১৩. নরসিংদী জেলা:

কথিত আছে, প্রাচীনকালে এ অঞ্চলটি নরসিংহ নামক একজন রাজার শাসনাধীন ছিল। আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে রাজা নরসিংহ প্রাচীন ব্যক্ষ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে নরসিংহপুর নামে একটি ছোট নগর স্থাপন করেছিলেনঅ তাঁরই নামানুসারে নরসিংদী নামটি আবির্ভূত হয়। নরসিংহ নামের সাথে ‘দী’ যুক্ত হয়ে নরসিংদী হয়েছে। নরসিংহদী শব্দের পরিবর্তিত রূপই “নরসিংদী”।

১৪. রাজবাড়ী জেলা:

রাজা সূর্য্য কুমারের নামানুসারে রাজবাড়ীর নামকরণ করা হয়। রাজা সূর্য্য কুমারের পিতামহ প্রভুরাম নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রাজকর্মী থাকাকালীন কোন কারণে ইংরেজদের বিরাগভাজন হলে পলাশীর যুদ্ধের পর লক্ষীকোলে এস আত্মগোপন করেন। পরে তাঁর পুত্র দ্বিগেন্দ্র প্রসাদ এ অঞ্চলে জমিদারী গড়ে তোলেন। তাঁরই পুত্র রাজা সূর্য্য কুমার ১৮৮৫ সালে জনহিতকর কাজের জন্য রাজা উপাধি প্রাপ্ত হন। ১৯৮৪ সালে ১মার্চ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

১৫. শরীয়তপুর জেলা:

বৃটিশ বিরোধী তথা ফরায়েজী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে শরীয়তপুরের নামকরণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে ১লা মার্চ শরীয়তপুর জেলা শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন তথ্য মন্ত্রী জনাব নাজিম উদ্দিন হাসিম।

১৬. শেরপুর জেলা:

বাংলার নবাবী আমলে গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী দশ কাহনিয়া অঞ্চল দখল করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। এই শের আলী গাজীর নামে দশ কাহনিয়ার নাম হয় শেরপুর।

১৭. টাঙ্গাইল জেলা:

টাঙ্গাইলের নামকরণ বিষয়ে রয়েছে বহুজনশ্রুতি ও নানা মতামত। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত রেনেল তাঁর মানচিত্রে এ সম্পূর্ণ অঞ্চলকেই আটিয়া বলে দেখিয়েছেন। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের আগে টাঙ্গাইল নামে কোনো স্বতন্ত্র স্থানের পরিচয় পাওয়া যায় না। টাঙ্গাইল নামটি পরিচিতি লাভ করে ১৫ নভেম্বর ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে মহকুমা সদর দপ্তর আটিয়া থেকে টাঙ্গাইলে স্থানান্তরের সময় থেকে।
টাঙ্গাইলের ইতিহাস প্রণেতা খন্দকার আব্দুর রহিম সাহেবের মতে, ইংরেজ আমলে এদেশের লোকেরা উচু শব্দের পরিবর্তে ‘টান’ শব্দই ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিল বেশি। এখনো টাঙ্গাইল অঞ্চলে ‘টান’ শব্দের প্রচলন আছে। এই টানের সাথে আইল শব্দটি যুক্ত হয়ে হয়েছিল টান আইল। আর সেই টান আইলটি রূপান্তরিত হয়েছে টাঙ্গাইলে। টাঙ্গাইলের নামকরণ নিয়ে আরো বিভিন্নজনে বিভিন্ন সময়ে নানা মত প্রকাশ করেছেন। কারো কারো মতে, বৃটিশ শাসনামলে মোগল প্রশাসন কেন্দ্র আটিয়াকে আশ্রয় করে যখন এই অঞ্চল জম-জমাট হয়ে উঠে। সে সময়ে ঘোড়ার গাড়িছিল যাতায়াতের একমাত্র বাহন, যাকে বর্তমান টাঙ্গাইলের স্থানীয় লোকেরা বলত ‘টাঙ্গা’। বর্তমান শতকের মাঝামাঝি পর্যন্তও এ অঞ্চলের টাঙ্গা গাড়ির চলাচল স্থল পথে সর্বত্র। আল শব্দটির কথা এ প্রসঙ্গে চলে আসে। বর্তমান টাঙ্গাইল অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের নামের সাথে এই আল শব্দটির যোগ লক্ষ্য করা যায়। আল শব্দটির অর্থ সম্ভবত সীমা নির্দেশক যার স্থানীয় উচ্চারণ আইল। একটি স্থানকে যে সীমানা দিয়ে বাঁধা হয় তাকেই আইল বলা হয়। টাঙ্গাওয়ালাদের বাসস্থানের সীমানাকে ‘টাঙ্গা+আইল’ এভাবে যোগ করে হয়েছে ‘টাঙ্গাইল’ এমতটি অনেকে পোষণ করেন। আইল শব্দটি কৃষিজমির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই শব্দটি আঞ্চলিক ভাবে বহুল ব্যবহৃত শব্দ। টাঙ্গাইলের ভূ-প্রকৃতি অনুসারে স্বাভাবিক ভাবে এর ভূমি উঁচু এবং ঢালু। স্থানীয়ভাবে যার সমার্থক শব্দ হলো টান। তাই এই ভূমিরূপের কারণেই এ অঞ্চলকে হয়তো পূর্বে ‘টান আইল’ বলা হতো। যা পরিবর্তীত হয়ে টাঙ্গাইল হয়েছে।
------------------------------------------------------------------------------------------------
২। চট্টগ্রাম বিভাগ:

১. বান্দরবন জেলা:

বান্দরবন জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি আছে, এলাকার বাসিন্দাদের মুখে প্রচলিত রূপকথায় অত্র এলাকায় এ সময় অসংখ্য বানর বাস করত। আর এ ই বানরগুলো শহরের প্রবেশ মুখে ছড়ার পাড়ে প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত। এক সময় অতি বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেলে বানরের দল ছড়া পাড় থেকে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পার হয়। বানরের ছড়া পারাপারের এই র্দশ্য ধেকতে পায় এই জনপদের মানুষ। এই সময় থেকে জায়গাটি “ম্যাঅকছি ছড়া” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মার্মা ভাষায় ম্যাঅক শব্দটির অর্থ হল বানর আর ছিঃ শব্দটির অর্থ হল বাধঁ। কালের প্রবাহে বাংল ভাষাভাষির সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম বান্দরবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে মার্মা ভাষায় বান্দরবনের প্রকৃত নাম “রদ ক্যওচি চিম্রো’।

২. ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলা:

১৯৮৪ সালে ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তার আগে এটি কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমা ছিল। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাইনি, আপনাদের জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।

৩. চাঁদপুর জেলা:

১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ জরিপকারী মেজর জেমস রেনেল তৎকালনি বাংলার যে মানচিত্র অংকন করেছিলেন তাতে চাঁদপুর নামে এক অখ্যাত জনপদ ছিল। তখন চাঁদপুরের দক্ষিণে নরসিংহপুর নামক ( বর্তমানে যা নদীগর্ভে বিলীন) স্থানে চাঁদপুরের অফিস-আদালত ছিল। পদ্মা ও মেঘনার সঙ্গমস্থল ছিল বতৃমান স্থান থেকে পাওয়া প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে। মেঘনা নদীর ভাঙ্গাগড়ার খেলায় এ এলাকা বর্তমানে বিলীন। বার ভূঁইয়াদের আমলে চাঁদপুর অঞ্চল বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলে ছিল। ঐতিহাসিক জে.এম সেনগুপ্তের মতে চাঁদরায়ের নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কথিত আছে চাঁপুরের (কোড়ালিয়া) পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কারো কারো মতে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাষক দিল্লী থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদী বন্দর স্থাপন করেছিলেন। তাঁর নামানুসারে চাঁদপুর। ১৮৭৮ সালে প্রথম চাঁদপুর মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৮৯৬ সালের ১ অক্টোবর চাঁদপুর শহরকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৪ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারী চাঁদপুর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৪. চট্টগ্রাম জেলা:

চট্টগ্রামের প্রায় ৪৮ টি নামের খোঁজ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রম্যভূমি, চাটিগাঁ, চাতগাও, রোসাং, চিতাগঞ্জ, জাটিগ্রাম ইত্যাদি। চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে, পন্ডিত বার্নোলির মতে, আরবি ‘শ্যাত (খন্ড) অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গা নদী থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। অপর এক মতে ত্রয়োদশ শতকে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন বার জন আউলিয়া। তাঁরা একটি বড় বাতি বা চেরাগ জ্বালিয়ে উঁচু জায়গায় স্থাপন করেছিলেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘চাটি’ অর্থ বাতি বা চেরাগ এবং গাঁও অর্থ গ্রাম। এ থেকে নাম হয় ”চাটিগাঁও”। এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার উইলিয়াম জোন্সের মতে, এ এলাকার একটি ক্ষুদ্র পাখির নাম থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম মোঘল সম্রাজের অংশ হয়। আরাকানদের পরাজিত করে মোঘল এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম আলী খান ইসলামাবাদকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে কোম্পানি এর নাম রাখেন চিটাগাং।

৫. কুমিল্লা জেলা:

প্রাচীনকালে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়। কুমিল্লা নামকরণের অনেকগুলো প্রচলিত লোককথা আছে, যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য চৈনিক পরিব্রাজক ওয়াং চোয়াং কর্তৃক সমতট রাজ্য পরিভ্রমণের বৃত্তান্ত। তাঁর বর্ণনায় কিয়া-মল-ঙ্কিয়া (Kiamolonkia) নামক স্থানের বর্ণনা রয়েছে তা থেকে কমলাঙ্ক বা কুমিল্লার নামকরণ হয়েছে। ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

৬. কক্সবাজার জেলা:

আরব ব্যবসয়ী ও ধর্ম প্রচারকগণ ৮ম শতকে চট্টগ্রাম ও আকিব বন্দরে আগমন করেন। এই দুই বন্দরের মধ্যবর্তী হওয়ায় কক্সবাজার এলাকা আরবদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে। নবম শতাব্দীতে কক্সবাজার সহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম হরিকেলার রাজা কান্তিদেব দ্বারা শাসিত হয়। ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকান রাজা সুলাত ইঙ্গ চট্টগ্রাম দখল করে নেবার পর থেকে কক্সবাজার আরাকান রাজ্যের অংশ হয়। ১৭৮৪ সালে রার্মারাজ বোধাপায়া আরাকান দখল করে নেয়। ১৭৯৯ সালে বার্মারাজের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রায় ১৩ হাজার আরাকনি কক্সবাজার থেকে পালিয়ে যায়। এদর পূনর্বাসন করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একজন হিরাম কক্সকে নিয়োগ করে। পূনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই হিরাম কক্স মৃত্যু বরণ করেন। পূনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের জন্য কক্স-বাজার নামক একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কক্স-বাজার থেকে কক্সবাজার নামের উৎপত্তি।

৭. ফেনী জেলা:

ফেনী নদীর নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয় ফেনী। মধ্যযুগে কবি ও সাহিত্যিকদের কবিতা ও সাহিত্যে একটি বিশেষ নদীর স্রোদধারা ও ফেনী পারাপারের ঘাট হিসেবে আমরা ফনী শব্দটি পাই। ষোড়শ শতাব্দীতে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর পরাগলপুরের বর্ণনায় লিখেছেন, ‘ফনী নদীতে বেষ্টিত চারিধার, পূর্বে মহাগিরি পার পাই তার’। সতের শতকে মির্জা নাথানের ফার্সী ভাষায় রচিত ‘বাহরিস্থান-ই-গায়েরীতে’ ফনী শব্দ ফেনীতে পরিণত হয়। আটারো শতকের শেষ ভাগে কবি আলী রেজা প্রকাশ কানু ফকির তাঁর পীরের বসতি হাজীগাঁওয়ের অবস্থান সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, ‘ফেনীর দক্ষিণে এক বর উপাম, হাজীগাঁও করিছিল সেই দেশের নাম’। মোহাম্মদ মুকিম তাঁর পৈতৃক বসতির বর্ণনাকালে বলেছেন,”ফেনীর পশ্চিমভাগে জুগিদিয়া দেশ। বলাবাহুল্য তাঁরাও নদী অর্থে ফেনী শব্দ ব্যবহার করেছেন। মুসলমান কবি-সাহিত্যিকদের ভাষায় আদি শব্দ ‘ফনী’ ফেনীতে পরিণত হয়েছে।

৮. খাগড়াছড়ি জেলা:

খাগড়াছড়ি একটি নদীর নাম। নদীর পাড়ে খাগড়া বন থাকায় খাগড়াছড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে।

৯. লক্ষীপুর জেলা:

১৯৮৪ সালে লক্ষ্মীপুর একটি পূর্নাঙ্গ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ জেলার অধীনে ৫ টি উপজেলা, ৩ টি পৌরসভা, ৫৫টি মহল্লা, ৪৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৪৫টি মৌযা এবং ৫৩৬ টি গ্রাম আছে। তবে লক্ষীপুর জেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

১০. নোয়াখালী জেলা:

নোয়াখালী জেলা প্রচীন নাম ছিল ভুলুয়া। নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম ছিল সুধারাম। ইতিহাসবিদদের মতে, একবার ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভঅবে প্লাবিত হয়ে ফসলি জমির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করে।এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে ১৬৬০ সালে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়, যা পানি প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্ঝ, সোইমুড়ী ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। এই বিশাল খালকে নোয়াখালীর ভাষায় ‘নোয়া (নুতুন) খাল’ বলা হত এর ফলে ‘ভুলুয়া’ নামটি পরিবর্তিত হয়ে ১৬৬৮ সালে নোয়াখালী নামে পরিচিতি লাভ করে।

১১. রাঙ্গামাটি জেলা:

রাঙামাটি জেলা নামকরণ সম্পর্কে বিলু কবীরের লেখা ‘বাংলাদেশ জেলা : নামকরণের ইতিহাস’ বই থেকে জানা যায় তা হলো- এই এলাকায় পর্বতরাজি গঠিত হয়েছিল টারশিয়রি যুগে। এই যুগের মাটির প্রধান ব্যতিক্রম এবং বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর রঙ লালচে বা রাঙা। এই এলাকার গিরিমৃত্তিকা লাল এবং মাটিও রাঙা বলেই এই জনপদের নাম হয়েছে রাঙামাটি। প্রকৃতি সূচক এই নামকরণটির বিষয়ে অন্য প্রচলিত কথাপরম্পরা হলো- বর্তমান রাঙামাটি জেলা সদরের পূর্বদিকে একটি ছড়া ছিল, যা এখন হ্রদের মধ্যে নিমজ্জিত। এই হ্রদের স্বচ্ছ পানি যখন লাল বা রাঙামাটির উপর দিয়ে ঢাল বেয়ে প্রপাত ঘটাতো, তখন তাকে লাল দেখাতো। তাই এই ছড়ার নাম হয়েছিল ‘রাঙামাটি’। এই জেলা সদরের পশ্চিমে আরও একটি ছড়া ছিল। অনুরূপ কারণে তার নাম দেয়া হয়েছিল ‘রাঙাপানি’। এই দুই রাঙা ছড়ার মোহনার বাঁকেই গড়ে উঠেছে বর্তমান জেলা শহর। যা মূলত ছিল অনাবাদী টিলার সমষ্টি এবং বহু উপত্যকার এক নয়নাভিরাম বিস্ময়ভূমি। এই দুটি ছড়া রাঙামাটি ও রাঙাপানি হতে ‘রাঙামাটি’ জেলার নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৮৩ সালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা গঠন করা হয়। 
১৫-০৬-২০১৬
চলবে-

June 13, 2016

কয়েক দিন থেকে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ব্যকরণ বিষয়ক পোস্ট নিয়মিত দিতে পারছি না।
আশা করি.... আগামী দু'একদিনের মধ্যেই দেয়া শুরু করবো ...
হে বিধাতা -
তুমি আমায় গর্হিত অপরাধ
সংঘটিত করা থেকে বিরত
রাখো - তোমার হুকুম ছাড়া
যখন- গাছের একটি পাতাও
নড়ে না- আমার কোনো সাধ্য
আছে কি ? তাই সত্য জেনে-
আমার কৃতকর্মের সমস্ত....
দায়ভার তোমাকেই অর্পণ
করলাম ............................
sp 
 
দু'চোখের জলে কেন
অবিরত ধুয়ে যায় স্বপ্নরাশি- 
হতাশার মেঘ যেন
অবিরাম ছুঁতে চায় স্নিগ্ধ'হাসি !
sp 
বলেছিল- সঙ্গে থাকো-
আমিও ছিলাম ...................।
একটুখানি হোঁচট খেতেই...
বললো- তুমি রাস্তা মাপো-
তোমার পথে তুমি হাঁটো
সঙ্গে থাকার দৃষ্টি আমার
চিরতরে আজকে থেকে
সরিয়ে নিলাম..................!
sp   

June 12, 2016

যখনি মনের আকাশে ওঠে
এক ফালি চাঁদ ; ফুল ফোটে
হৃদয়ের কুঞ্জে- অন্তবীণা তোলে
রিমঝিম ঝিম সুরঝংকার-
তখনি বেরসিক বেদনার মেঘ

ঢেকে দেয় চাঁদ- প্রলয়ের বেগ
এসে ঝরায় মুকুল- চোখের কোলে
 নামে- অথৈ জলের জোয়ার !!
sp 
   
যত ভাবি ভুলে যাব
ব্যথা সব গুলে খাব
পারি নাতো কিছু তার
পুরোনো সে ক্ষত গুলো
হয়ে যেন পথো ভুলো
ফিরে আসে বার বার !
sp

June 10, 2016

আজ আমার-------
গভীর বিশ্বাসের মর্মমূল-

উপেক্ষার---
সুতীক্ষ্ন এক কাঁটার আঘাতে
ক্ষত বিক্ষত-
অশান্ত হৃদয় জুড়ে-
বেঁধেছে হুলস্থুল !!
sp 
 



 
ইতিপূর্বে আমরা- শব্দের আদিতে বা প্রারম্ভে 'অ' থাকলে-
তার উচ্চারণ 'ও' কারান্ত হয়- তা জেনেছি -
আজ জানবো শব্দ মধ্যস্থিত 'অ' এর উচ্চারণ কিরূপ হয়।
সূত্র : এক
শব্দ মধ্যস্থিত 'অ' (ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত ) আদ্য 'অ' এর মতোই-
ই ( ি ), ঈ ( ী ), উ ( ু ), ঊ ( ূ ), ঋ ( ৃ )কার ক্ষ , এবং-
্য ( য )ফলার আগে থাকলে ঐ 'অ' এর উচ্চারণ 'ও' কারের
মতো হয়ে থাকে। যেমন-
শব্দ ------------------------------উচ্চারণ
--------_______________------------
কাকলি --------------------------কাকোলি
প্রণতি ---------------------------প্রোনোতি
অবগতি -------------------------অবোগোতি
সুমতি ---------------------------শুমোতি
সকরুণ -------------------------শকোরুন - ( 'ন' - এ হসন্ত হবে )
উপকূল -------------------------উপোকুল - ( 'ল' - এ হসন্ত হবে )
অমসৃণ -------------------------অমোসৃন - ( 'ন' - এ হসন্ত হবে )
অদক্ষ ---------------------------অদোকখো- ( 'ক' - এ হসন্ত হবে )
দৈবজ্ঞ--------------------------- দোইবোগগোঁ - ( 'ই' এবং 'গ' - এ ্ হবে )
অগত্যা -------------------------অগোততা - ( 'ত' - এ ্ হবে )
শব্দ মধ্যস্থিত 'অ' - এর তিন'টি সূত্র আছে - আজ এ পর্যন্তই .....
বাকি গুলো ধারাবাহিক ভাবে দেয়া হবে-
অথেনটিকের সঙ্গে থাকুন প্রতিদিন।
১০-০৬-২০১৬
ইতিপূর্বে আমরা শব্দের শুরুতে 'অ' থাকলে-
এর উচ্চারণের মোট ৮ টি সূত্রের ৩টি পর্যন্ত শিখেছি-
আজ জানবো অবশিষ্ট ৫টি সূত্র সম্পর্কে।
সূত্র (৪)- শব্দের প্রথমে যদি 'অ' থাকে এবং তার পরে- অ + ঋ থাকে-
তাহলে 'অ' এর উচ্চারণ 'ও' হবে যেমন :

মসৃন> অ+ঋ = মোসৃন
বক্তৃতা> অ+ঋ = বোক্তৃতা
সূত্র (৫)- যে সকল শব্দ রেফ যুক্ত- পূর্বে য-ফলা ( ্য ) ছিল কিন্তু
বর্তমানে নেই সে শব্দ গুলোয় 'অ' - 'ও' উচ্চারিত হবে যেমন :
পর্য্যন্ত> পর্যন্ত = পোরজোনতো - ( 'র' এবং 'ন' এ হসন্ত হবে )
পর্য্যায়> পর্যায় = পোরজায় - ( 'র' এ হসন্ত হবে )
চর্য্যাপদ> চর্যাপদ = চোরযাপদ - ( 'র' এ হসন্ত হবে )
সৌন্দর্য্য> সৌন্দর্য = সউনদোরজো - ( 'ন' এবং 'র' এ হসন্ত হবে )
সূত্র (৬)- শব্দের আদি অর্থাৎ শুরুতে যদি র-ফলা (্র) থাকে তবে-
'অ' - 'ও' উচ্চারিত হবে যেমন :
মূল-----------------উচ্চারণ
-------_________----------
ক্রম -----------------ক্রোম
গ্রহ ------------------গ্রোহ
ব্রত ------------------ব্রোতো
ত্রস্ত ------------------ত্রোস্ত
ব্রজ ------------------ব্রোজো
প্রকাশ ---------------প্রোকাশ
প্রভাতী ---------------প্রোভাতী
শ্রবণ -----------------শ্রোবণ
ব্যতিক্রম ; 'র'-ফলার পরে যদি 'য়' থাকে-
তাহলে 'অ' এর উচ্চারণ অপরিবর্তিত থাকবে
যেমন : ক্রয় - ট্রয় - ত্রয় ইত্যাদি।
সূত্র (৭)- সাধু ভাষায় 'ই' ( ি) কার আছে কিন্তু -
চলিত ভাষায় বিলুপ্ত- সেক্ষেত্রেও 'অ' এর স্থলে 'ও' উচ্চারিত হবে
সাধু ---------------------চলিত --------------------------উচ্চারণ
করিবার ----------------করবার -------------------------কোরবার
ধরিবার -----------------ধরবার -------------------------ধোরবার
করিল -------------------করলো -------------------------কোরলো
সূত্র (৮)- 'অ' এর পর 'ন' থাকলে 'অ' - 'ও' উচ্চারিত হবে যেমন :
"মন - মোন" ---- "বন - বোন" ---- "ধন - ধোন" ---- "জন - জোন' ইত্যাদি।
ব্যতিক্রম : 'অ' এর পরে 'ন' থাকলে 'ও' উচ্চারিত হবে কিন্তু- 'ণ' থাকলে-
'অ' এর উচ্চারণ অপরিবর্তিত থাকবে যেমন : জনগণ - জনোগণ।
-নেতিবাচক শব্দেও 'অ' এর উচ্চারণ অপরিবর্তিত থাকবে যেমন :
অসীম- অসীম , অশোভন - অশোভন , অমূল্য - অমূল্য ইত্যাদি।
আমরা জেনেছি- যেসব ক্ষেত্রে শব্দের আদিতে 'অ' থাকলে এর উচ্চারণ 'ও' হয়-
এর পর জানবো- কোন কোন শব্দের মাঝে 'অ' থাকলে তার উচ্চারণ 'ও' হবে।
আজ এ পর্যন্তই ..... নিয়মিত চোখ রাখুন অথেনটিকের মুক্তাঙ্গনে - শুভরাত্রি।
১০-০৬-২০১৬

June 7, 2016

( বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার সম্পর্কে কিছু তথ্য- যারা সাহিত্য চর্চা করো-
 -হয়তো তোমাদের সামান্য হলেও কাজে আসবে )
বাংলা শব্দভাণ্ডার :
-----------------------------------------------------------------------------------------------
বাংলা শব্দভাণ্ডার হল বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার যার মূল এবং আদি উৎস পালি এবং প্রাকৃত ভাষা দ্বারা। বাংলা ভাষাতে পরের কালে ফার্সি, আরবি, সংস্কৃত এবং বিভিন্ন ভাষা থেকে ঋণশব্দ এবং পুনঃঋণশব্দ গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাষার সংস্পর্শে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে থেকে তাই বাংলার শব্দভাণ্ডার বর্তমানে অসংখ্য শব্দসমৃদ্ধ ও বিচিত্র।

উৎপত্তির ধরন ও শ্রেণীবিভাগ
আধুনিক সাহিত্যিক বাংলা শব্দের সূত্র
তদ্ভব (সংস্কৃত পুনঃঋণশব্দ)
তৎসম (সংস্কৃত ঋণশব্দ)
দেশী (আদিবাসী ঋণ) এবং বিদেশী (বিদেশী ঋণ)

১.উৎপত্তির ধরণ ও শ্রেণীবিভাগ :

একটি সাধারণ বাংলা অভিধানে প্রায় ৭৫,০০০ পৃথক শব্দ তালিকাভুক্ত করা থাকে, যাতেঃ

৫০,০০০ (৬৭%) শব্দসমূহ "তৎসম" (সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি গৃহীত পুনঃঋণশব্দ);
২১,১০০ (২৮%) শব্দসমূহ "তদ্ভব" (বাংলা ভাষার শব্দসমূহ যার উৎস পালি এবং প্রাকৃত ভাষা দ্বারা হয়েছে);

আর বাকি শব্দসমূহ "দেশী" (আদিবাসী ঋণ) ও "বিদেশী" (বিদেশী ঋণ) মনে করা হয়।
তবে এইগুলো শব্দ থেকে বিশাল খণ্ডের শব্দসমূহ আসলে প্রাচীন বা অত্যন্ত প্রযুক্তিগত হবার কারণে তাদের প্রকৃত ব্যবহার কমে গেছে। তাই আধুনিক বাংলা সাহিত্যিক কাজে ব্যবহৃত উৎপাদনশীল শব্দভাণ্ডারে আসলে ৬৭% হল "তদ্ভব" শব্দ, ২৫% হল "তৎসম" শব্দ, আর বাকি "দেশী" ও "বিদেশী" হল ৮% ব্যবহৃত।
-চলবে........
 
শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে- মুঘল, আরব, ফার্সি, তুর্কি, মঙ্গোল, পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ আর ব্রিটিশদের সঙ্গে যোগাযোগে থাকার কারণে বাংলা ভাষাটিতে বিদেশী ভাষাসমূহ থেকে অগণিত শব্দ গৃহীত হয়েছে । কিছু খুব সাধারণ ঋণশব্দ-গুলো আরবি, ফার্সি, তুর্কি, জাপানি, সংস্কৃত, ওলন্দাজ, পর্তুগিজ, ফরাসি, ইংরেজি আর আদিবাসী ভাষাগুলো থেকে গ্রহণ করা-
নিচে ঋণশব্দ ও পুনঃঋণশব্দ-সমূহের উদাহরণ :
আরবি শব্দ
শব্দ....... আরবি-তে
আক্কেল.... ‘আকল্
আসল ..... أصل আসল্
এলাকা.... أﻻﻛﺔ ইলাকাহ্
ওজন...... وزن ওয়াযন্
 
ফার্সি শব্দ :
শব্দ.......... ফার্সি-তে
আন্দাজ-- اندازه আন্দাযাহ্
আয়না--- آینه আয়েনাহ্
খোদা---- خدا খুদা
 
তুর্কি শব্দ :
শব্দ........ তুর্কি-তে
কোরমা... korma
চকমক.. çakmak
দাদা .......dede
নানী ......nine
 
জাপানি শব্দ
শব্দ....... জাপানি-তে
বোকা.... ばか বাকা
হাশি .....箸 হাশি
চা .........茶 চা
 
দেশী শব্দ :
শব্দ..........অর্থ
খুকি.........মেয়ে
খোকা...... ছেলে
খোঁজ........সন্ধান
চাল..........চাউল
ঠ্যাং..........পা
 
 
সংস্কৃত শব্দ
শব্দ..........সংস্কৃত-তে
চাহিদা......चाहिदा চাহিদা
স্বাগতম্....स्वागतम् সুয়াগতম্
নির্বাণ.......निर्वाण নির্বাণ
যোগ.........योग ইয়োগ
যৌন.........यौन ইয়ৌন
আর্য..........आर्य আর‌্যা
আসন.......आसन আসন
 
 
ওলন্দাজ শব্দ
শব্দ.......ওলন্দাজ-তে
ইস্কাবন......
ইশকাপন..schoppen
ইস্ক্রুপ.........schroef
টেক্কা..........teca
তুরুপ.........troef
রুইতন.......ruiten
হরতন........harten
 
পর্তুগিজ শব্দ
শব্দ..........পর্তুগিজ-তে
আলমারি...armário
ইস্ত্রি...........
ইস্তিরি.......estirar
ইস্পাত.....espada
কামিজ.....camisa
গামলা......gamela
 
 
ফরাসি শব্দ
শব্দ..........ফরাসি-তে
আঁশ.........asch
ওলন্দাজ...hollandaise
কার্তুজ.....cartouche
রেস্তোরাঁ....restaurant
শেমিজ.....chemise
পাতি........petit
 
 
ইংরেজি শব্দ
শব্দ........ইংরেজি-তে
অফিস.....office
জেল.........jail
ডাক্তার......
ডক্টর.........doctor
পুলিশ.......police
ব্যাংক.......bank
ভোট.........vote
চেয়ার.......chair
টেবিল.......table
বাক্স..........box
লণ্ঠন.........lantern

সূত্র : উইকিপিডিয়া , মুক্ত বিশ্বকোষ।